বাংলাদেশের উৎসব বলতে বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনকে বোঝায়, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পহেলা বৈশাখ (বাংলা নববর্ষ), ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা, দুর্গা পূজা, এবং ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা দিবস; এছাড়া নবান্ন, পহেলা ফাল্গুন, বুদ্ধ পূর্ণিমা, বড়দিন, বৈসাবি, নৌকা বাইচ ও রথযাত্রার মতো নানা ধরনের উৎসব এখানে পালিত হয়, যা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির পরিচয় বহন করে।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন এবং বাংলাদেশে এটি নববর্ষ হিসেবে সর্বজনীন লোকউৎসবের রূপে পালিত হয়। অতীতের গ্লানি ভুলে নতুন বছরকে আনন্দ, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় বরণ করা হয়। এর সূচনা মুঘল সম্রাট আকবরের সময়ে ফসলি সন প্রবর্তনের মাধ্যমে, যা পরে বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়। একসময় কৃষিনির্ভর সমাজে খাজনা পরিশোধ, হালখাতা ও মেলার মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপিত হতো; বর্তমানে তা গ্রাম ও শহরজীবনে সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। বৈশাখী মেলা, লোকগান, নৃত্য, নাটক, খেলাধুলা ও ঐতিহ্যবাহী খাবার এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ। ঢাকায় রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এবং চারুকলার শোভাযাত্রা নববর্ষ উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের বৈসাবি উৎসব নববর্ষকে ভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করেছে।